রাজশাহী বিভাগীয় চীফ :
সিরাজগঞ্জের তাড়াশে কাটাগাড়ী-তাড়াশ আঞ্চলিক সড়কে কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মান করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। এসব ব্রীজে পানি প্রবাহ পথ বন্ধ করে বেআইনীভাবে বসতবাড়ী নির্মাণ করায় গ্রামের একমাত্র পথ ও বাজারে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার পরিবারের চলাচলে হয়ে পড়েছে কষ্টকর। দুটি প্রতিষ্ঠানের পাচঁ শতাধিক শিক্ষার্থীসহ ওই এলাকায় বসবাসকারী জনসাধারণ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। এ ব্যাপারে প্রায় ৩ শতাধিক গ্রামবাসী স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ সরকারী বিভিন্ন দপ্তরে দায়ের করেছে করেছেন।
উপজেলার দেশীগ্রাম ইউনিয়নের আড়ংগাইল গ্রামে সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, আড়ংগাইল বাজারের পূর্ব পাশের হেরিংবন্ড এর রাস্তা ডুবে গিয়েছে। তাড়াশ-কাটাগাড়ী আঞ্চলিক সড়ক থেকে কিছুটা নিচু এলাকায়। ওই এলাকায় পানি নিষ্কাশনের জন্য সড়কে কালভার্ট স্থাপন করা হয়েছে। সেই কালভার্ট স্থানীয় প্রভাবশালী মৃত. আলী বক্স এর ছেলে পর্বত আলী (৫৫) ও আব্দুর রহমানের ছেলে আবু জাফর কালভার্ট এর পুর্ব পাশের মুখ বন্ধ করে দিয়ে স্থাপনা নির্মাণ করেছে। এতে ওই এলাকার বাজার, আড়ংগাইল দাখীল মাদ্রাসা ও আড়ংগাইল সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ে কৃত্রিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ওই সব এলাকায় বসবাসকারী শিক্ষার্থী, শ্রমিকসহ এলাকাবাসী চলাচলে মারাত্মক ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে নষ্ট হচ্ছে শাক-সবজি, মৌসুমি ফল ও ফসল। টয়লেটের ময়লা ছড়িয়ে পড়ছে জলাবদ্ধতার পানিতে। কোথাও কোথাও আবার হাঁটু থেকে কোমর পানিতে ভিজে নিজ বাড়িতে আসা যাওয়া করতে হচ্ছে।
জলাবদ্ধতায় আটকে পড়া আড়ংগাইল সরকারী প্রা: বিদ্যালয়ের ছাত্র ইসরাফিল, শিহাব, মহব্বত, মুন্নী রিমাসহ অনেক কোমলমতি শিক্ষার্থীরা জানান, ‘১৫ দিন যাবত তাদের স্কুলে হাটু পানির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। বর্তমানে বৃষ্টির কারনে পানি বেড়ে গিয়ে কোমর পর্যন্ত হয়। এতে তাদের স্কুলে যেতে সমস্যা হয়।
আড়ংগাইল দাখীল মাদ্রাসার সুপারিনটেডেন্ট মো. জহুরুল ইসলাম জানান, ‘ওই এলাকার পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বার বার বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। যদি কালভার্ট এর মুখ খুলে দিয়ে পানি নিস্কাশন করা না হয়। তবে মাদ্রাসার ছুটি দেয়া ছাড়া উপায় থাকবে না।
অভিযোগকারী গ্রামবাসী সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গফুর বলেন, সড়কের পাশে যখন কালভার্ট এর মুখ বন্ধ করে বাড়ি নির্মান করা হয়। তখন বাধা দেয়া হয়েছিল কিন্তু তারা শোনেনি। এখন বৃষ্টির পানি জমে কৃতিম জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। আমরা গ্রামবাসী ও স্কুলগামী ছাত্র-ছাত্রীরা চরম কষ্টের মধ্য চলাচল করছি। তাছাড়া গ্রামে প্রবেশ পথে হেরিংবন্ড এর রাস্তাটি ভেঙ্গে গিয়ে ইট পুকুরে গিয়ে পড়তেছে।
এ বিষয়ে পর্বত আলী ও আবু জাফর এর সঙ্গে কথা বলতে তাদের বাড়ি গিয়ে দুজনকে পাওয়া যায় নি।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এস.এম ফেরদৌস ইসলাম বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে দ্রুত পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এলাকাবাসী কালভার্টের মুখ বন্ধ করে দিয়ে নির্মাণ করা বাড়ি ঘর উচ্ছেদ করে স্বাভাবিক পানি প্রবাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।
কালভার্টের মুখ বন্ধ করে বাড়ী নির্মাণ তাড়াশে কৃতিম জলাবদ্ধতার শিকার স্কুল,মাদ্রাসার পাঁচ শতাধিক ছাত্রছাত্রীসহ এক হাজার পরিবার
নিউজ আপডেট টাইম : আগস্ট, ১৯, ২০১৭, ৮:০৫ পূর্বাহ্ণ | নিউজটি পড়া হয়েছে :
161 বার
